‘‘বেগমগঞ্জ থানা যুবকল্যাণ সমিতির” বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য আনন্দ আয়োজন

 

 

‘জীর্ণ যাহা কিছু যাহা কিছু ক্ষীণ, নবীনের মাঝে হোক তা বিলীন, ধুয়ে যাক যত পুরনো মলিন, নব আলোকের স্নানে’ এমনই আশায় সব জীর্ণতাকে ধুয়ে মুছে দিতে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী “মা” সংগঠন ‘‘বেগমগঞ্জ থানা যুবকল্যাণ সমিতির” বর্ণাঢ্য বৈশাখী আনন্দ আয়োজন।

 

বিজে২৪বৈশাখী নিউজ:

 

‘‘বেগমগঞ্জ থানা যুবকল্যাণ সমিতির” বর্ণাঢ্য এই বৈশাখী আনন্দ আয়োজনের মুল উদ্দেশ্য সব ক্ষুদ্রতা-জীর্ণতা,দীর্নতাকে ঢেকে বাঙালির জীবনে নতুন সুর ছড়িয়ে দেয়া। আশা নতুনের এ আলোকচ্ছটায় আবার নবসাজে সাজবে সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ।

 

বসন্তের দখিনা বাতাসে মিলেমিশে একাকার পহেলা বৈশাখের  আনন্দময় সুরের মূর্চনা। বাঙালির সবচেয়ে বড় এই অসম্প্রদায়িক সার্বজনীন উৎসবকে বরণ করে নিতে সংস্কৃতির সংগঠন ‘‘বেগমগঞ্জ থানা যুবকল্যাণ সমিতির” প্রতিটি সংস্কৃতিমনা সদস্য ছিল অত্যন্ত সরব।  সংগঠনের সবাই ব্যস্ত ছিল গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, গ্রুপ ফটোসেশন, অতিথি বরণ আর আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মাঝে বৈশাখের বাহারী খাবার পরিবেশনে।

 

নববর্ষকে বরণ করতে পহেলা বৈশাখের ভোর থেকেই শুরু হয় সংগঠনের নানা আনন্দ আয়োজন।  যা রাত পর্যন্ত চলে। অন্যদিকে পুরো রাজধানী জুড়েও  হাজারো মানুষের ঢল নামে। লাল, সাদা, খয়েরি আর বাসন্তি রঙের নতুন পোশাকে পুরো রাজধানী হয়ে ওঠে আরো রঙিন।

 

এদিকে‘‘বেগমগঞ্জ থানা যুবকল্যাণ সমিতির” কর্মকর্তা ও সকল সদস্যদের জন্য নিজস্ব নকশায় তৈরি করা হয়   নতুন পোশাক। ফলে অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় আলাদা সৌন্দর্য। সেই সঙ্গে নজর কাড়তে তৈরি করা হয় নানা বৈচিত্রের দৃষ্টিনন্দন তোরণ। বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপন উপলক্ষে শনিবার রাত থেকেই  পল্টন কমিউনিটি সেন্টার-কে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে।

 

বৈশাখী আনন্দ আয়োজনে সংগঠনের সভাপতি আরজু খানের সভাপতিত্বে শওকত উল্যাহ চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের মুল আকর্ষন ছিলেন বিশ্বব্যাংক ও ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন থেকে এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত, নোয়াখালীর সন্তান, কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপস্হিত দর্শকদের নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে নোয়াখালীর আগামী প্রজম্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নবীনরাই তাদের সততা, কর্মদক্ষতা ও বুদ্ধিদীপ্ত মেধাকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগিয়ে আগামীর সুস্থ, সুন্দর সকলের বাসযোগ্য নিরাপদ নোয়াখালী গড়বে এটাই আমার অন্তিম প্রত্যাশা।

 

উদ্ভোধকের বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির টানা সাত বারের বিজয়ী, সাবেক এম,পি,ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আমন্ত্রিত অতিথিদের বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ টেনে  বলেন, নোয়াখালীতে রোহিঙ্গা পূনর্বাসনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে “নিরাপদ নোয়াখালী চাই” এর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্র্রতিবাদ সমাবেশ-কে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি।তিনি বলেন নোয়াখালীতে রোহিঙ্গা পূনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নোয়াখালীর আগামী প্রজম্মের জন্য চরম হুমকি,তাই নোয়াখালীবাসী কখনো এটা মেনে নেবেনা।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামাল এন্ড কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও বেগমগঞ্জ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম.জামাল উদ্দিন.নোয়াখালী সমিতির সভাপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, সম্রাট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম.আই খান বেলাল।

 

 

সংগঠনের উপদেষ্টামন্ডলীর মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বেগমগঞ্জ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রধান সম্পাদক জাফর আহামেদ, বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি ঢাকার ডেপুটি সেক্রেটারী জেনারেল, সমাজ সেবক মনোয়ার হোসাইন তৌফিক, নোয়াখালী ক্লাব ঢাকা লিঃ এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন,  উপদেষ্টা আহাম্মদ উল্যাহ, বর্ষবরণ উৎযাপন পরিষদের আহব্বায়ক রফিকুল হাসান সুমন, সদস্য সচিব ফজলে আজিম সুজন,  বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক মোঃ আজিজুর রহমান কিরণ, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও নিরাপদ নোয়াখালী চাই এর প্রধান সমন্বয়ক, আরটিভির সিনিয়র নির্বাহী এম.সাইফুর রহমান রাসেল,

 

 

ডিবেট ফর লিবারেশন এন্ড ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান সময় মুরাদ, নোয়াখালী মেইল সম্পাদক মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন, উপদেষ্টা মোঃ সালাহ উদ্দিন, রফিক উল্যাহ রাজু, মাহফুজুর রহমান কিরণ, মঞ্জুরুল কাদের চৌধুরী সহ বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক,সাংবাদিক ব্যক্তিবর্গ  অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

 

পরিশেষে তরুণ প্রজম্মের জনপ্রিয় শিল্পী জনি খানের পরিচালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও সহ-কর্মীদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।