নিজাম উদ্দিন:

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অান্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ-বিপিএল। এই পর্যন্ত টুর্নামেন্টটির পাঁচটি অাসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টি২০ টুর্নামেন্টটি মূলত দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিদের একটি বড় অংশ এসেছে নোয়াখালী অঞ্চল থেকে। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অঞ্চল নোয়াখালীর নামে একটি দল অন্তর্ভুক্তি করার তীব্র অাশা প্রকাশ করেছে এই অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী জনগন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত নোয়াখালী নামে কোন দল খেলতে পারেনি বিপিএল এ। অথচ বিপিএল এর অাগের কয়েক অাসরে রংপুর, সিলেট ও চিটাগাং এর দলে নোয়াখালীর শিল্পপতিরা জড়িত ছিল। এছাড়াও বিপিএল এর টুর্নামেন্ট স্পন্সরশীপ ও বিভিন্ন দলের স্পন্সরশীপেও জড়িত নোয়াখালীর শিল্পপতিরা। তারপরও তারা নোয়াখালী নামে কেন দল নিতে পারেনি ? তাদের যোগ্যতা থাকা সত্বেও কেন তারা অন্য অঞ্চলের নামে দল নেয়, নোয়াখালী নামে কেন নয় সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।

যদি বিপিএল এর নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় জেলার নাম ছাড়া দল না নেয়া যায় তাহলে বিপিএল এর তৃতীয় অাসরে বিভাগীয় শহর বহির্ভু্ত কুমিল্লা জেলার নামে কিভাবে দল অন্তর্ভূক্ত করা হয়, যা বর্তমান অাসরগুলোতে ও চলমান। বিপিএল এর তৃতীয় অাসরে যখন সাবেক বিসিবি সভাপতির মেয়ের মালিকানাধীন ‘সিলেট রয়্যালস’ নামক দলটির নাম পরিবর্তন করে ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ করা হয় তখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল থেকে বলা হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি তার ইচ্ছেমত যেকোন অঞ্চলের নামই দিতে পারে। নাম নিয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

অন্যদিকে বিপিএল এ নোয়াখালীর দল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে বিসিবির বোর্ড পরিচালক এবং ‘পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব’ ও ‘অাম্বার স্পোর্টিং ক্লাব’ এর চেয়ারম্যান শওকত অাজিজ রাসেল বলেছেন – “অামাদের নোয়াখালীর অনেক ব্যাবসায়ী অাছেন যারা সরাসরি ক্রিকেটের পৃষ্টপোষকতা করেন, যারা গত অাসরগুলোতে রংপুর, চিটাগাং নিয়ে ছিলেন। অামরা নোয়াখালী থেকে একটি দল নেয়ার চেষ্টা করছি, এটা অামাদের অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের অাশা। কিন্তু বিপিএল এর কিছু গঠনতান্ত্রিক জটিলতা থাকায় অামরা নোয়াখালী নামে দল নিতে পারছিনা।”

এখন প্রশ্ন কুমিল্লার নামে দল নেয়ার সময় বিপিএল এর গঠনতন্ত্রটা কোথায় ছিল? যেখানে নোয়াখালীর নামে দল নিতে গঠনতান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা অার নোয়াখালীর মধ্যে পার্থক্য কোথায়? তাহলে কি এখানে কারো প্রভাব কাজ করছেনা?

তাহলে কি অামরা ভেবে নিব অন্যকিছু? অামরা জানি যে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সাবেক বিসিবি সভাপতি ও বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী অাহম মোস্তফা কামালের মেয়ের মালিকানাধীন দল, যা অাগে সিলেট রয়্যালস নামে ছিল। অামরা সবাই জানি বেশকিছুদিন ধরেই নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চল দেশের নতুন বিভাগের দাবী করে অাসছে। ঠিক যখনই বিভাগ ইস্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু, তখনই সিলেট রয়্যালস নামক দলটি কুমিল্লার নামে হয়ে যায়। অার নোয়াখালীর পক্ষে দল নিতে গেলে বিপিএল এর গঠনতান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। তাহলে, সাবেক বিসিবি সভাপতির প্রভাব, হঠাৎ ই কুমিল্লা নামে দল নেয়া এবং বিভাগ ইস্যুতে কুমিল্লা এগিয়ে যাওয়ার যোগসুত্রের ধারনা করা যায় না ? যদি তাই হয় তাহলে তা হবে ক্রিকেটের জন্য কালো অধ্যায়। কেননা একটি অঞ্চলের স্বার্থের জন্য অারেকটি অঞ্চল ক্রীড়াক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে এটা কখনই জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।

 

–নিজাম উদ্দিন: সাংবাদিক ও ক্রীড়া বিশ্লেষক; যুগ্ম-আহবায়ক-‘নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলন’।