প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনী কর্তৃক নোয়াখালীতে সবচেয়ে বড় ও নৃশংস গণহত্যাকান্ড সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর বাজারে। ঐ গণহত্যাকান্ডের ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিহত অর্ধশতাধিক শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ‘গোপালপুর গণহত্যা’ দিবস পালিত হয়।

স্থানীয়ভাবে আওয়ামীলীগ ১৫ই আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচী ১৯ আগস্ট পালন করে এ গণহত্যায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

 

অন্যদিকে এ গণহত্যাকান্ডে নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘গোপালপুর গণশহীদ স্মৃতি সংসদ’ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। গোপালপুর বাজার জামে মসজিদে শুক্রবার বাদ আসর এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে গণশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার মধ্য দিয়ে সংসদের গণহত্যা দিবসের কর্মসূচী সমাপ্ত হয়।

‘শহীদ পরিবারের সদস্য ও গণহত্যা দিবসের কর্মসূচী বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মোঃ আনোয়ার হোসেন শিমুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সংসদের সভাপতি ও বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কালাম আজাদ। আরো বক্তব্য রাখেন নোয়াখালীমেইল সম্পাদক ও ‘নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলন’র আহবায়ক মোহাম্মদ ঈমাম হোসাইন।

মসজিদের খতিব মাওলানা নুর মোহাম্মদ সিরাজির পরিচালনায় ‘গোপালপুর গণশহীদ স্মৃতি সংসদ’-এর ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচী  ‘দোয়া মাহফিল’-এ উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগনেতা, তরুণ রাজনীতিক ও সংগঠক মোরশেদ আলম, বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মহিউদ্দিন গাজী, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন পাটোয়ারী, সহ সভাপতি এমএজি বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার রতন, শহীদ পরিবারের সদস্য আমীর হোসেন বাচ্চু মেম্বারসহ প্রায় দু’শতাধিক স্থানীয় মুসুল্লী ও জনসাধারণ।

 

‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯ আগস্ট গোপালপুর গণহত্যার  ৪৮তম বার্ষিকীতে শহীদ বেদীতে পুষ্ফস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। শাহ আলম ভূঁইয়া সুজনে নেতৃত্বে পুষ্ফস্তবক অর্পনকালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হুদা মিন্টু ও ‘গোপালপুর গণশহীদ স্মৃতি সংসদ’-এর সভাপতি আব্দুল কালাম আজাদ।

 

নোয়াখালীর সর্ববৃহৎ এ ‘গণহত্যা’ দিবস উপলক্ষ্যে গণহত্যায় নিহত শহীদ পোস্টমাষ্টার ইসমাইল মিয়াজির দৌহিদ্র ও যমুনা ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আনোয়ার হোসেন শিমুল গণমাধ্যমকে জানানশহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে ‘গোপালপুর গণশহীদ স্মৃতি সংসদ’ গঠন করা হয়েছে এ স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে প্রতি বছর এ গণহত্যাসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আরো জানান, “এ গণহত্যায় নিহতরা প্রত্যেকে যেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হয় গোপালপুর গণশহীদ স্মৃতি সংসদ’-এর মাধ্যমে আমরা সে প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাব