নোয়াখালীতে করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবার জায়গা দিতে রাজি হননি ৩ হাসপাতাল, ঝুঁলছে তালা

কোভিক-19 নামক করোনা জ্বরে আক্রান্ত সমগ্র বিশ্ব, চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল, ইতোমধ্যে এই মরণঘাতক কেড়ে নিয়েছে গোটা বিশ্বের প্রায় ১লক্ষ ৪৬হাজার মানুষের প্রাণ, আক্রান্ত ২২লাখের কাছাকাছি । বিশ্বের বাঘাবাঘা দেশগুলো যখন হিমশিম খেয়ে পড়ছে মহামারী করোনা মোকাবেলায়। তখন বাংলাদেশ কতখানি প্রস্তুত করেছে নিজেদের এই মহামারী করোনা মোকাবেলায়, এই প্রশ্ন তো থেকেই যায়।

যাই হোক দেশ কিছুটা প্রস্তুত থাকলেও করোনা মোকাবেলায় পুরোদমে পিছিয়ে আছে ধনীদের জেলা খ্যাত নোয়াখালী। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় ‍অনান্য জেলার তুলনায় অনেকটা কম হলেও করোনা রোগী সনাক্তকরণ কিংবা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য এখনও স্থাপন করা হয়নি সুনিদিষ্ট কোনো হাসপাতাল কিংবা কোনো কেন্দ্র। অনান্য জেলায় ৬০-৮০ কিংবা ১০০ শয্যার হাসপাতাল প্রস্তুত থাকলেও নোয়াখালীতে এখন পর্যন্ত নেই তেমন কোনো ব্যবস্থা। এটি সমগ্র জেলাবাসীর জন্য একটি অশণি সংকেত মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে জেলার কোভিক-19 করোনা আক্রান্ত রোগীদের স্থায়ীভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য তিনটি হাসপাতালকে অনুরোধ করা হলে তারা বিভিন্ন অজুহাতে দিতে রাজি হয়নি। হাসপাতাল গুলো হলো, মডার্ণ হাসপাতাল যা  দিতে অনিচ্ছুক মালিকের পক্ষে নানা তদবিরের মুখে  বিভ্রান্ত হয়ে সিভিল সার্জনকে  বাদ দিতে হয়েছে এই হাসপাতালের আশা।

দ্বিতীয়ত, নোয়াখালীর চৌমুহনী চৌরাস্তায় অবস্থিত ১০০ শয্যার প্রাইম হাসপাতাল,  জেলার সিভিল সার্জন করোনা রোগীর চিকিৎসায় এই হাসপাতালটি চাইলে সেটি দিতেও সরাসরি অস্বীকৃতি জানান হাসপাতাল মালিক। অপরদিকে অজুহাত স্বরুপ দেখানো হয়েছে হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রন  ব্যবস্থার অসমাপ্তির কথা।

তৃতীয়ত, জেলাশহর মাইজদীর নতুন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত মা মনি হাসপাতাল, যেটির দীঘদিন থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য এই হাসপাতালটি চাওয়া হয়, এতে মালিক পক্ষ তো রাজি হয়ইনি উল্টো হাসপাতালে ঝুলিয়ে দিয়েছেন তালা, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা মালিক পক্ষকে । অপরদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন চাওয়া হলে সেটিও পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে বিবিসি জার্নালের সাথে কথা হয় সিভিল সার্জন নোয়াখালীর তিনি বলেন, জেলাতে করোনা রোগীর চিকিৎসায় জেলা প্রশাসন ও আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এই তিনটি হাসপাতালকে অনুরোধ করেছিলাম ,কিন্তু দুঃখের বিষয় দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে তারা মানুষের কথা না ভেবে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়, কেউ কেউতো আবার হাসপাতালে তালা ঝুঁলিয়ে দিয়ে পালিয়েই গেছে।

এমতাবস্থায আমরা উনার কাছে জানতে চেয়েছি বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ব্যবস্থা করতে পেরেছেন কিনা, উত্তরে তিনি জানান, কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে বাধ্য হয়েই আমরা শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম ও জিমনেশিয়াম ভবনকেই প্রস্তুত করছি করোনা রোগীদের ‍চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য।

এর মধ্যে ভুলু স্টেডিয়ামের ৪০টি বেড প্রস্তুত হয়েছে, অন্যদিকে জিমনেশিয়ামে আরো ৭০টি বেডের ব্যবস্থার কাজ চলমান,যা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করতে পারবো বলে আশা রাখছি।

এদিকে কেউ কেউ বলছেন এমন অব্যবস্থাপনার প্রধান কারন, জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারনেই হচ্ছে। সমন্বয়হীনতা সম্পকের্ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তন্ময়দাস বলেন, দায়িত্বটি খোদ সিভিল সার্জনের এবং উনাকে অত্যন্ত স্বচ্ছ ভাবে বলা হয়েছে, যে স্থাপনাটি আপনার পছন্দ সেটি আপনি চাইবেন,আমি বাকীটা পরিস্কার করে দেব, কিন্তু তিনি সেটি না করে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলতে যান,যা আমাকে একটি বিব্রতকর পরিসি্থতির মধ্যে ফেলেছে।

এই বিষয়ে নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলে একটা পদক্ষেপ নিবো।

নোয়াখালী পৌরসভা মেয়র সহিদ উল্যা খান সহেল বিবিসি জার্নালকে বলেন, আমি যতদূর জানি এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সাংসদ মহোদয় আলোচনা করে করোনা রোগীদরে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য একটি জায়গা ঠিক করবেন, এক্ষেত্রে পৌরসভার পক্ষ থেকে যতটুকু লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া দরকার তার সবটুকুই আমি দেব। কিন্তু উনারা এখন পর্যন্ত সেরকম উপযুক্ত  কোনো জায়গা ঠিক করতে পারেননি বিধায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র চালু করা এখনো সম্ভব হয়নি।

নোয়াখালী,লক্ষ্মীপুর,ফেনী জেলার সমন্বয়ে গঠিত একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন