উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীগন

 

 

বিজে২৪ নিউজ:

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেতা-কর্মীদের সমর্থন আদায়ে তাদের সাথে গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় এমপি, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

 

 

দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে সংসদ নির্বাচনের ন্যায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনী ময়দান দখল করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সারি লম্বা হলেও দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ।

 

 

বেগমগঞ্জ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ থেকে উপজেলা পরিষদের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম সাবেক চেয়ারম্যান,ছয়দফায় বলিষ্ট নেতৃত্বদানকারী ও নোয়াখালী জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য বিনয় কিশোর রায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আনছারী, ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল হক মুন্না,  ভাইস চেয়ারম্যাান প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক টিপু, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক নুর হোসেন মাসুদ, সাবেক উপজেলা আ.লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জন্টু  নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন।

 

 

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুব মহিলা লীগের  যুগ্ম-আহবায়ক আবিদা সুলতানা উর্মি তৃনমূল থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক সমর্থন পেয়েছেন।ইতোমধ্যে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে সাধারণ জনগনের সাথে দেখা করছেন,এবং নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা  করছেন বলে জানা গেছে।

 

 

বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকম-কে উর্মি বলেন-ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করবো ,সে লক্ষ্যেই আমার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে প্রার্থী হওয়া,যদি বেগমগঞ্জ উপজেলার আমার প্রানপ্রিয় জনগন আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন,তাহলে বেগমগঞ্জের উন্নয়নে ও নারী জাগরণে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

 

 

তবে গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে এই উপজেলায় তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের সাবেক সেনা প্রধান মঈন-উ আহম্মদের ছোট ভাই, বেগমগঞ্জ উপজেলার জনগনের খুব প্রিয় মুখ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ আহম্মেদ জাবেদ কে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে গুণজন শোনা যাচ্ছে।

 

এদিকে এই নির্বাচনে দলের অবস্থানের দিকে তাকিয়ে অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে বিএনপি প্রার্থীরা। দল যদি নির্বাচনে অংশ নেয় সেই ক্ষেত্রে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আবদুর রহিমের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলুর স্ত্রী জেলা বিএনপির সদস্য শামীমা বরকত লাকীর নাম শুনা যাচ্ছে।

 

 

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরন বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকম-কে  জানান, এখনও বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা হয়নি। তফসিল ঘোষনা হলে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য এমন ব্যক্তিকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয়া হবে।

 

তৃণমূলের নেতা কর্মীদের দাবি, মামুনুর রশিদ কিরনের সমর্থন ছাড়া গ্রহনযোগ্যতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা দু’টোই বড় ফ্যাক্টর। চেয়ারম্যান পদটি শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ন পদ। তাই উড়ে এসে জুড়ে বসা ও স্বল্প শিক্ষিত এমন প্রার্থীর ব্যাপারে সজাগ থাকা উচিত। অযোগ্য ব্যক্তির হাতে পদটি যেন তুলে না দেয়া হয় এ দাবি সবার।

 

 

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের সাবেক সেনা প্রধান মঈন-উ আহম্মদের ছোট ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ আহম্মেদ জাবেদ। তখনকার সময় থেকে তিনি এই উপজেলায় রাস্তা-ঘাট, পোল-কালভাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছিলেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন তার সমর্থকরা।

 

 

এ উপজেলার আরেক কৃর্তি সন্তান ভিপি মোহাম্মদ উল্যা। তিনি ১৯৬২ সালে সরাসরি বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে রাজনীতি শুরু করার পর থেকে ছাত্রলীগের অগ্রভাগে থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর বোমা হামলায় ডান চোঁখ নষ্ট হয়ে যাওয়া ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে চিকিৎসা করান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে রাজনীতিতে আসা ভিপি মোহাম্মদ উল্যা জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, বর্তমান উপদেষ্টা, বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কাটিয়ে ছিলেন। যার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিরলস ভাবে কঠোর পরিশ্রম করেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবারো চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। প্রার্থী হিসেবে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ এখন থেকেই মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। গণসংযোগ করছেন বিভিন্ন এলাকায়।

 

 

ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহর পাশাপাশি এখানে বাংলাদেশ শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক গভর্নর ও সংসদ সদস্য মরহুম নুরুল হক মিয়ার পুত্র ওমর ফারুক বাদশাও আলোচনায় রয়েছেন। রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বেড়ে উঠা ও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ওমর ফারুক বাদশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে চৌমুহনী পৌর এলাকা ও উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

 

বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আবদুর রহিম বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর-কে  বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে না। তাই এখানে প্রতিন্দ্বদ্ধিতা করার পরিবেশ দেখছেন না তিনি। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ও দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত হলে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নির্ধারন করা হবে বলে জানান তিনি।

 

                          বিজ্ঞাপন অংশ

 

বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকমের সংবাদ পড়ুন-তথ্যের সাথে থাকুন-বিশ্ব-কে জানুন।