নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জমে উঠেছে মাদকের রমরমা ব্যবসা : কর্তামহল চুপ

বিজে২৪ নিউজ:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জমে উঠেছে মাদকের বর্নাঢ্য ও জমজমাট ব্যবসা ।  এই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঘটছে হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা।

 

বৃহত্তর নোয়াখালী প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী-সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মাদক বিক্রেতাদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। সর্বত্র মাদকের সহজলভ্যতার ফলে একদিকে যুব সমাজের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি এর প্রভাব পড়ছে কিশোরদের উপর।

 

অপরদিকে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বেপরোয়া আচরণের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে । এসব কাজে রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং গ্রাম পুলিশ (চৌকিদারদের) সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

 

চৌমুহনী শহর-সহ উপজেলর প্রতিটি গ্রামগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ফেনসিডিলসহ নানা রকম মাদকের ছড়াছড়ি। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে । সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যাবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলেও আইনের ফাঁক ফোঁকরে বেরিয়ে এসে বর্তমানে তারা আবার মাদক সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে ।

 

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে বাস, মাইক্রোবাস-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইয়াবা,  কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও মিয়াবাজার এলাকা দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে গাঁজা, ফেনসিডিল-ফেনী ও কুমিল্লা হয়ে বেগমগঞ্জে প্রবেশ করে। এসব মাদক স্থানীয়ভাবে বিক্রি ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ হয়ে থাকে। দিনে দুপুরে, রাত-বিরাতে চৌমুহনী শহরসহ বেগমগঞ্জের বেশ কয়েক স্থানে মাদকের বেচাকেনা চলছে অবাধে ।

 

এছাড়াও কাজিনগর রাস্তার মাথা সিএনজি ষ্টেশান ও অটো রাইসমিল এলাকায়  বর্তমানে প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবসা চলছে । এসব এলাকায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মটরসাইকেল  ও সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে মাদক সেবীরা আসে এবং তারা বিভিন্ন বাড়ির সামনে, রাস্তার মোড়ে ও বিভিন্ন স্কুলের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে মাদক বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে প্রকাশ্যে মাদক ক্রয় ও সেবন করছে। এতে করে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

 

এছাড়া চৌমুহনী পৌর শহরের ফেনী রোড, মন্ডল পাড়া, নাপিতের পোল, রেল গেট, কলেজ রোডের মাথা রাজাপুরের পোল, রমজান বিবি জিরতলী সড়ক, একলাসপুর মাজার সড়ক, মজিব সড়ক গোলাবাড়িয়া এলাকায় এক শ্রেণির বখাটে ও সন্ত্রাসী যুবকরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। শুধু তাই নয় বেগমগঞ্জের ৪নং আলেয়াপুর ও শরীফপুর এর বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে নায্যমুল্য বাজার, দঃ খানপুর, হাসান হাট, জেলে পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় নামীদামী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় মাদকের স্বর্গরাজ্য তৈরী হয়েছে। কিন্তু এসব দেখেও কর্তামহল চুপ!!

 

মহিলা ও ব্যবসায়ীরা এসব ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে বেশি। এসব এলাকা দিয়ে একাকী বা অপরিচিত কেউ চলাচল করলে বখাটে যুবকরা এগিয়ে আসে এবং তাদের ঘিরে ধরে এবং ওই ব্যক্তির পকেটে জোরপূর্বক ২/৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে টানাহেঁচড়া করতে থাকে, এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে যায়।

 

ঝে মধ্যে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করলেও আইনের ফাঁক ফোঁকরে আদালত থেকে জামিনে এসে আবার তারা তাদের মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করে।

 

এ ব্যাপারে  বিবিসি জার্নাল ২৪ ডটকম এর সম্পাদক সাইফুর রহমান রাসেলের সাথে কথা হয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ, চৌমুহনী পৌরসভা মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সল ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসাইন মোল্লার সাথে তারা তিনজনই বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি । আমরা যে কোনো উপায়ে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সকল সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা ।

 

এখন শুধু দেখার পালা এই জনপ্রতিনিধিরা সমাজ থেকে কতটুকু মাদক দমন করতে পারেন। আমরা মনে করি, সাধারণ জনগনের আন্তরিক সহযোগিতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের একটু সৎ ইচ্ছাশক্তি, সঠিক উদ্যোগ ও সুনিদিষ্ট কর্ম -পরিকল্পনা থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে মাদক নামের এই মরণব্যাধিকে চিরতরে নির্মূল করা শতভাগই সম্ভব, তাই আসুন মাদক ও মাদক সন্ত্রাসী বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই-মাদক নির্মূল করি,মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি।