বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে পারেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহফুজ উল্লাহ। দেশব্যাপী জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যাক্তিদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে পাস করিয়ে আনার বিএনপি চেয়ারপার্সনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে মাহফুজ উল্লাহ’র কথা ভাবা হচ্ছে। বিএনপি’র নীতি নির্ধারনী পর্যায় থেকে তাঁকে নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে বিএনপি মহাসচিবের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে জনাব মাহফুজ উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নির্বাচনী প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি এখনো কোন মতামত দেননি। পরে যথা সময়ে তাঁর পক্ষে প্রেসকে অবহিত করা হবে।

লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশবিদ জনাব মাহফুজ উল্লাহ ১৯৫০ সালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রো-ভিসি ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবি প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ’র ছোট ভাই।

জনাব মাহফুজ উল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ এবং বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি। রেডিও ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন অনেক।

বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তাঁর বইয়ের সংখ্যা ৫০-এর অধিক এবং এসবের অধিকাংশই পৃথিবীর বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগৃহিত আছে।