বেগমগঞ্জের একলাশপুরে দুই চাচার হাতে দৃষ্টি ও  বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষিত-গর্ভেই ২সন্তানের হত্যা ।

 

বিজে২৪এক্সক্লসিভ:

 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার ৭নং একলাশপুরে দৃষ্টি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষনের অভিযোগ করেছে কিশোরীর পরিবার।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে , একলাশপুর হেঞ্চু হাজী বাড়ীর নুরুল হকের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী (২২) কে পালাক্রমে দীর্ঘ দুই বছর ধরে ধর্ষন করেছে একই বাড়ীর সামছুল হকের ছেলে বাদশা ও মনা। সম্পর্কে বাদশা ও মনা দুজনই রৌশনের চাচা হয় (কিশোরীর বাবার চাচাতো ভাই)

 

বুদ্ধিহীন প্রতিবন্ধী মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রথমে তাকে বিভিন্ন ভাবে ঢেকে নিয়ে ধর্ষন করে সামছল হকের ছোট ছেলে মনা, যার ফলস্বরুপ কিশোরী রৌশন প্রথম বার অন্তঃসত্ত্বা হয়, সামাজিক লোক লজ্জার ভয়ে গ্রাম্য ডাক্তার এর মাধ্যমে তিনমাসের বাচ্চাকে নষ্ট করে ফেলে দুপক্ষের পরিবার।

 

কিশোরী রৌশন সামছুল হকের ছোট ছেলে মনার লালসার হাত থেকে  সাময়িক ভাবে রেহাই পেলেও  রেহাই পায়নি  মনার বড় ভাই বাদশার হাত থেকে। ছোট ভাই মনার মত বাদশাও নিয়মিত ঘরে ও বাইরে বিভিন্ন ভাবে প্রতিবন্ধী রৌশন কে নিয়ে তার যৌন চাহিদা মেটাতো।

 

এভাবে রৌশন আবারও দ্বিতীয়বারের মত অন্তঃসত্ত্বা হয়, পাঁচমাসের বাচ্চা তার গর্ভে, প্রচন্ড ব্যথায় যখন প্রতিবন্ধী কিশোরী  রৌশন চিৎকার করছিল তখনই পরিবারের সবাই বিষয়টি দ্বিতীয় বারের মত জানতে পারে। পাষন্ড বাদশা তখন রৌশনের মায়ের পায়ে ধরে অনুরোধ করে সে রৌশনকে বিয়ে করবে, বাচ্চাটি যেন নষ্ট করে ফেলা হয়। যেমন কথা তেমন কাজ বাদশার প্রলোভনে দ্বিতীয় বাচ্চাটিও মেরে ফেলা হল। এরপর সামাজিক ভাবে বাদশা ও তার পরিবার কে চাপ দেয়া হয় রৌশনকে বিয়ে করতে কিন্তু বাদশা তা না করে পালিয়ে যায়।

 

রৌশনের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, বিষয়টি কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটা  অসাধু মহল বাদশা ও তার পরিবার কে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।

 

এ বিষয়ে বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সাথে কথা হয় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের সাথে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়ে পক্ষ আমার কাছে এসেছিল আমি এ বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইনা, তারা যেভাবে পারুক বিষয়টি সমাধান করুক-কিংবা আইনের সহায়তাও নিতে পারে-কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কর্ণপাত করতেও নারাজ।

 

প্রতিবন্ধী রৌশন বেগমের ভাই সোহাগ বলেন, আমার বোন দৃষ্টি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, সে এসবের কিছুই বোঝেনা, সে এখনও জানেনা তার সাথে এই দুই পাষন্ড কি করেছে। আমার প্রতিবন্ধী অসহায় বোনটিকে তারা দুই ভাই  বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে দীর্ঘদিন থেকে এসব খারাপ কাজ করেছে, আমার বোন দুইবার গর্ভবতী হয়েছে, এইবার তো তাকে বাঁচানোই যেতনা, আমরা সঠিক সময়ে হাসপাতালে না নিলে আমার এই বোনটি মারা যেতো, কাঁদতে কাঁদতে বিবিসি জার্নাল কে এইসব অভিযোগ করছিলেন প্রতিবন্ধী রৌশনের ভাই।

 

প্রতিবন্ধী রৌশনের ভাই সোহাগ আরও বলেন, আমার বোনটার জীবন তো তারা শেষ করে দিয়েছে, যেন আর কোনো প্রতিবন্ধী বোনের জীবন কেউ এভাবে নষ্ট করে দিতে না পারে তার জন্য  আমি প্রশাসন ও সরকারের নিকট এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

সোহাগের কথার সাথে একমত পোষন করে সেখানকার সমাজবাসীও এর সঠিক ও কঠিন বিচার দাবি করেছেন সরকার ও প্রশাসনের কাছে। প্রতিবন্ধী কিশোরী সরকারী ভাবে দীর্ঘদিন থেকে প্রতিবন্ধী ভাতাও পাচ্ছেন।

 

ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু ট্রাইবু্নালে এই বিষয়ে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।