নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বসানো হয়েছে পশুর হাট। মঙ্গলবার উপজেলার চৌরাস্তা এলাকায় বেগমগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল হাই স্কুল মাঠে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এমনকি ক্লাস চলাকালীন সময়েই বসানো হয় পশুর হাট।

 

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে এ হাট বসানো হয়েছে বলে বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর কে অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. ছানা উল্যাহ। তিনি বলেন, বিদ্যালয় মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সভাপতি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর কর্তৃপক্ষ মিলে বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট বসিয়েছেন। স্কুল চলাকালীন মাঠে গরু আনতে নিষেধ করার পরও কেউ তা মানেনি।

 

মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিদ্যালয় মাঠে পশু আসা শুরু করে। কোরবানির পশুর মলমূত্র উচ্ছিষ্ট খাবার ও বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয় মাঠটি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

 

মঙ্গলবার দুপুরে বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল হাই স্কুল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মাঠ সংলগ্ন বিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় বিভিন্ন ক্লাসে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। শ্রেণি কক্ষের উত্তর পাশে বিশাল মাঠে বৃষ্টির পানি জমে এক ইঞ্চি পরিমাণ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

 

সেই পানির ওপর কোরবানির পশু বিক্রির জন্য বাঁশের সারি তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রবেশপথের পূর্ব পাশে ছাগল ও বখরি বিক্রির জন্য সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মানুষ চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাতে বেশ কিছু গরু বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।

 

 

গরু বাজার ইজারাদার আলমগীর হোসেন আলো ও তার সহযোগী শাহজাহান বলেন, বিদ্যালয় মাঠে মঙ্গলবার ও আগামী শনিবার পশু কেনাবেচা হবে। এ জন্য তিনি চার লাখ টাকা দিয়ে মাঠটি ইজারা নিয়েছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, কোন সরকারি বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানোর নিয়ম নেই। নিয়ম ভঙ্গ করে এখানে পশুর হাট বসানোর ফলে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বেন।

 

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, প্রতি বছর চৌরাস্তা বাস টার্মিনাল মাঠে পশুর হাট বসে। চলতি বছর সেখানে বাস টার্মিনাল ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। তাই পৌর কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দিনের জন্য বিদ্যালয় মাঠে কোরবানির হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

তবে বিদ্যালয় মাঠে পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য ইজারাদারকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

 

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বিবিসি জার্নাল-কে বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মাঠে পশুর হাট বসার কথা না। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।