নেত্রকোনায় রেলের জমি গিলে খাচ্ছে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট

 

নেত্রকোনা থেকে বিজয় চন্দ্র দাসের পাঠানো তথ্যচিত্রে একটি ডেস্ক রিপোর্ট:

 

বিজে২৪নিউজ

বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে নেত্রকোনা রেলস্টেশন ও রেললাইন সংলগ্ন জমি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেলওয়ের জমি শর্ত সাপেক্ষে লীজ নিয়ে ব্যবহার করার কথা থাকলেও তা মানছেন না স্থানীয় ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট । নেত্রকোনা রেললাইনের ১শ গজের মধ্যে বাড়ি ও দোকনঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন ওই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট ।

 

এদিকে রেলের জমির ক্রেতারা জমি দখলে রাখতে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে হরদম। সব জেনে স্থানীয় রেলকর্তৃপক্ষ ইসতিয়াক আহমেদ গং এর বিরুদ্ধে মামলা করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না। রেলের জমি কেনা-বেচা হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

নেত্রকোনা রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ের নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা মৌজার অধিগ্রহনকৃত জমির অব্যবহৃত অংশ লীজ নেয় স্থানীয় ইসতিয়াক আহম্দে সহ আরো কয়েকজন। যাদেরকে কৃষিকাজের জন্য মূলত জমিটি লীজ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা রেলের লীজকৃত শর্ত ভঙ্গ করে দোকানঘর নির্মাণসহ ওই জমির কিছু অংশ বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

 

সূত্র আরো জানায়, ইসতিয়াক আহমেদ ২০১৭ সালে পূর্বধলা মৌজাস্থ বি.এস-২০৫৭ ও ২১২৫ দাগের .৯ শতাংশ জমি লীজ নেয়। কৃষিকাজের শর্তে লীজ নিলেও তিনি ঐ জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। এতেও তিনি ক্ষান্ত হননি। এবার .৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকায়। বিষয়টি নেত্রকোনা রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় তারা তাকে নোটিশ প্রেরণ করে। কিন্তু ইসতিয়াক আহমেদ ও তার সহযোগিরা বিষয়টি আমলে নেয়নি। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে নেত্রকোনা বিভাগীয় অফিসের ফিল্ড কাননগো রুহুল আমীন বাদী হয়ে ইসতিয়াক আহমেদ ও ইমরান আহমেদ গংদের নামে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১২/২০১৯।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানায়, ইসতিয়াক আহমেদ ও তার সহযোগিরা স্থানীয় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মোটা টাকায় ম্যানেজ করে ঐ জমি বিক্রি করেছে বলে মামলা করেও কোন সুবিধা করতে পারছেনা মামলার বাদী রুহুল আমীন। উপরন্ত মামলা করার পর থেকে রুহুল আমীনকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে ইসতিয়াক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। মামলার বাদী রুহুল আমীন বলেন, রেলের কর্মকর্তারা মামলার কাজে সহযোগিতা না করলে রেলের দখলকৃত জমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে না কোনদিন। রেলের কোন প্রভাবশালী কর্মকর্তা যদি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠা করে রেলের জমি উদ্ধারে অন্যদের কোন কিছু করার থাকবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলস্টেশন এলাকার কয়েকজন লীজ গ্রহীতা জানান, আমরা রেলের পতিত জমি লীজ নিয়ে ব্যবহার করছি শর্তসাপেক্ষে। যদি রেলওয়ে চায় যে কোন সময় সেটি ফেরত নিতে পারবে। লীজ নেওয়ার জন্য দখলকৃত জমি বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনী। তবে লীজের বাইরেও রেলের অনেক জমি স্থানীয়ভাবে দখল হয়ে গেছে। কিন্তু ঐ জমি বিক্রি করার অধিকার আমাদের কারো নেই।

 

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা বড় রেলস্টেশন মাষ্টার মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন, রেল স্টেশনের দখলকৃত রেলের জমি বিক্রির বিষয়টি আমরা সবাই জানি। এ নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। রেলের জমি রেলেরই থাকবে। রেলওয়ে বিভাগ প্রয়োজনে যেকোন সময় তার নিজস্ব জমি প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করবে। লীজ ছাড়া স্থানীয়রা যে সব জমি দখল করেছে তাদেরও নোটিশ করা হয়েছে। সেগুলো শিগরিই উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রয়োজন স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা।