ঢাকায় বাজছে দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি-ডিএসসিসি) নির্বাচনের দামামা। নগরীর অলিতে-গলিতে মিছিল-স্লোগান ছাপিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াও সরব নির্বাচনী প্রচারণায়। প্রায় সব প্রার্থীই একই রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তারা নির্বাচিত হলে বাসযোগ্য নগর গড়বেন। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা’ গড়ার স্বপ্নের কথা।

কিন্তু নির্বাচনে নামার পর তাদেরই প্রচারণায় দূষিত হচ্ছে নগরের পরিবেশ। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী থেকে শুরু করে মেয়র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় বানানো পোস্টার-প্ল্যাকার্ড ঝুলছে নগরজুড়ে। আর এসব প্রচারণা সামগ্রী ঝোলানো হয়েছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনে মুড়িয়ে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, নিজেরাই নিষিদ্ধ পলিথিনে মোড়ানো পোস্টারে শহর ভরে দিয়ে কীভাবে তারা ‘গ্রিন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা’ গড়বেন?

পরিবেশবাদীরা বলছেন, যাদের হাতে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ার দায়িত্ব যাবে, তারাই যদি নগরীর পরিবেশের ক্ষতিকর কার্যক্রমে জড়িয়ে যান, তাহলে এ নগরী রক্ষা করবে কে, পরিচ্ছন্ন রাখবে কে? এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলেও অভিযোগ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাদের।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে, পলিথিনই বর্ষায় তীব্র জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবারের নির্বাচনে ভয়াবহ আকারে পলিথিনের ব্যবহারের কারণে সামনের বর্ষায় ঢাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। যদিও সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচনের পর তারা এসব অপসারণ করবেন।

Top.jpg

নগরীর অলিতে-গলিতে ঝুলছে পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার, বৃষ্টি হলে এসব পোস্টারই হবে বিষফোঁড়া, তৈরি করবে জলাবদ্ধতা

দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে দেখা গেছে, অলি-গলি, চায়ের দোকান, বাসভবনের সামনে, প্রধান সড়কে সব জায়গায় দড়িতে ঝুলছে প্রার্থীদের পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নন ‘হেভিওয়েট’ মেয়রপ্রার্থীরাও।

পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, নগরপিতার দায়িত্ব পেতে নির্বাচনের প্রচারণায় যারা নেমেছেন, তারা নাকি ঢাকাকে গ্রিন করবেন ক্লিন করবেন। এই তবে ক্লিন করার নমুনা? কোনো একজন প্রার্থীকে আপনি খুঁজে পাবেন না যিনি পলিথিনে তার পোস্টার মোড়াননি।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজকে বলেন , পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আমরা কিছুই রাখতে চাই না। এই লেমেনেটিং করা পোস্টার ইসির আচরণবিধির বাইরে নয়। তারপরও আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে নির্বাচনের পর আমি নিজ দায়িত্বে এসব পোস্টার সরিয়ে ফেলবো।

এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজকে বলেন , জানা মতে আমার পোস্টার প্লাস্টিকের হওয়ার কথা না। আমি সচেতনভাবে আমার কর্মীদের বলেছি যেন কোনো পলিথিন ব্যবহার না করি। নির্বাচনের রায় যাই হোক সকল প্রার্থীর লেমেনেটিং করা পোস্টার তিনি নিজে সরিয়ে রিসাইকেলের ব্যবস্থা করবেন।

Top.jpg

পরিবেশ অধিদফতর বলছে, তারা পলিথিনযুক্ত বা পলিথিনের মোড়কে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে ইসিকে চিঠি দেবে

জানতে চাইলে ডিএনসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজকে বলেন, আচরণবিধিতে সাদাকালো পোস্টারের কথা বলা হয়েছে। পোস্টার লেমেনেটিংয়ের বিষয়টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে না।