লক্ষ্মীপুরের আলোচিত স্কুলছাত্রী হীরামণি হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না তার বাবা হারুনুর রশিদ। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

ঘটনার পর তিনি আকুতি জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর আগে যেন মেয়ের হত্যাকারীদের চিনতে এবং বিচার দেখে যেতে পারেন। কিন্তু সেটা আর হলো না।

হারুনুর রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি গোপীনাথপুর চম্পকা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নিজাম উদ্দিন রনি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হারুন দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মেয়ে হত্যার পর তিনি আরও ভেঙে পড়েন। জীবদ্দশায় তিনি মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুপুরে ঘরে একা পেয়ে পালেরহাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী হীরামণিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর বৃহত্তর নোয়াখালী জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন নিরাপদ নোয়াখালী চাই ।

এদিকে এ ঘটনায় তরিকুল ইসলাম অয়ন, সুমন হোসেন ও আরিফ হোসেন নামে তিনজন কারাগারে। এখন পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, নিহতের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা যাচ্ছে না। রিপোর্ট এলে হত্যাকারী শনাক্ত হবে। ইতোমধ্যে আসামিদের রিমান্ডে এনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।