নোয়াখালীতে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারনার বন্ধের দাবিতে ৭দফা দাবিতে ডিসির সাথে নিরাপদ নোয়াখালী চাই এর বৈঠক।

বিজে২৪নিউজঃ

নোয়াখালীতে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারনা বন্ধে ৭দফা দাবিতে ডিসির সাথে নিরাপদ নোয়াখালী চাই এর বৈঠক।

 জেলা প্রশাসক,নোয়াখালী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খানের বিশেষ আহব্বানে চিকিৎসা প্রত্যাশীদের সাথে চিকিৎসা সেবার নামে হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধের দাবিতে নিরাপদ নোয়াখালী চাই সংগঠনের পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচী ও বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করা হয়।

 আজ দুপুর ১২.৩০মিনিটের সময় জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স হলে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করে ৭দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক করেন বৃহত্তর নোয়াখালীর জনপ্রিয় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী “সংগঠন নিরাপদ নোয়াখালী চাই”

 সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান রাসেলের সভাপতিত্বে, সুবর্ণচর উপজেলা শাখার আহব্বায়ক ওমর ফারুক সুমনের সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুম ইফতেখার ।

বৈঠকের শুরুতে সংগঠনের চেয়ারম্যান রাসেল ৭দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের এর আহব্বানে উনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা আজ আন্দোলন সাময়িক ভাবে স্থগিত করলাম। কিন্তু আগামী ১৫দিনের মধ্যে আমাদের প্রস্তাবিত ৭দফা দাবি বাস্তবায়নে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর তরুণ প্রজম্মসহ, নোয়াখালীতে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণার শিকার হওয়া শতশত ভুক্তভোগী পরিবার নিয়ে রাজপথে কঠিন আন্দোলন করা হবে।

 অপরদিকে, আন্দোলনকারী সংগঠন এর প্রস্তাবিত ৭দফা দাবি মেনে নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে আগামী ১৫ কার্য-দিবসে মধ্যেই আমরা বিহীত ব্যবস্থা নেবো ইনশাআল্লাহ।

এসময় সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুম ইফতেখার বলেন,আমি নোয়াখালীতে আসার পর থেকেই নোয়াখালীর চিকিৎসা প্রত্যাশী মানুষের কলাণে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা করে যাচ্ছি, ইতোমধ্যে কয়েকটি অনিবন্ধিত ক্লিনিকের চাবিও আমরা জব্দ করেছি। কথা দিচ্ছি আপনাদের সংগঠনের প্রস্তাবিত ৭দফা দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা অবিচল কাজ করে যাবো।

সবশেষে নিরাপদ নোয়াখালী চাই এর প্রস্তাবিত ৭দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি সিভিল সার্জনকে অনুলিপি করে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রদান করা হয়।

নিরাপদ নোয়াখালী চাই এর প্রস্তাবিত ৭দফা দাবি সমূহঃ

১.চার বছরের শিশু মেহেবার এর সাথে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারনায় জড়িত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে ঘটনার সত্যতা যাচাই পূর্বক সিলগালা ও সংশ্লিষ্ট ডাক্তার গনের নিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে।

২.নোয়াখালী হাসপাতাল রোডে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠা অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোকে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে স্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষনা করতে হবে।

৩.সার্জারী ডাক্তার বিহীন যেকোনো ধরনের অপারেশন বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

 ৪.সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ডাক্তারদের সনদপত্র আছে কিনা, তাহা যাচাই পূর্বক প্রকৃত ডাক্তারদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

 ৫.পরীক্ষার নামে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে বিবেক বর্জিত রক্তচোষা চিকিৎসা বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষনা করতে হবে।

৬.সরকার অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক ছাড়া অন্য কোন হাসপাতাল,ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেন রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষন করতে না পারে সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

৭.নোয়াখালীতে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা প্রত্যাশী অসহায় মানুষের সাথে প্রতারণা ও হয়রানী বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক-কে ৭দফা দাবি সম্বলিত স্মারক লিপি প্রদান।