নিউজ ডেস্ক :

ঢাকায় স্বামীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত, দুই সন্তানকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন এবং বিষক্রিয়ায় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে (২৮ নং) ডিসি অফিসের পেছনের একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে।

স্বামী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বামীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।আর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে এনেও বাঁচানো যায়নি স্ত্রীকে।

মৃত জ্যোৎস্নার চাচাতো ভাই আবদুল করিম জানান, শুক্রবার সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ পেয়ে পঞ্চম তলার ওই বাসায় গিয়ে এক রুমে স্বপনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পাশের রুমে দেখতে পাই জ্যোৎস্নাকে। আর ছেলে সাজিদ হোসেন ইপ্তি ও মেয়ে সানজিদা আক্তার জোহাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই।

পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জ্যোৎস্নাকে সোয়া ১টায় মৃত ঘোষণা করেন। আর ইপ্তি ও জোহাকেও হাসপাতালে আনার পর পাকস্থলী পরীষ্কার (স্টোমাক ওয়াশ) করে শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ অালী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেড়ে স্ত্রী জ্যোৎস্না সন্তান দুটিকে অচেতন করে স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছেন।

পরে তিনি নিজে পাশের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন! তবে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আহতরা চিকিৎসাধীন।

এই পরিবারের স্বজনরা শিশু দুটির বরাত দিয়ে জানান, মা জ্যোৎস্না তাদের পান খাওয়ান। এর পরপরই তারা ঘুমিয়ে পড়ে। পরে আর কিছুই দেখিনি তারা। স্বামী স্বপন মিয়া আরেকটি বিয়ে করেছেন, এমন সন্দেহ নিয়ে কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল।

ঢামেক হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের দায়িত্বরত এক চিকিৎসক বিবিসি জার্নাল ২৪ -কে জানান, স্বপনের ঘাড়ে তিনটি, গলার নিচে একটি ও বাম হাতে ধারালো অস্ত্রের একটি গভীর অাঘাত রয়েছে। তার অবস্থা অাশঙ্কাজনক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অাঘাতের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, কেউ তাকে অাঘাত করেছে।