বিজে২৪ নিউজ :

যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সবাই আগামীতে আবারও আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে ১৮টি ইভেন্টে আলোচনা ও ১১ জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে। তারা দেশের নির্বাচন নিয়ে কোনো পরামর্শ দেননি; আলোচনাও হয়নি। তবে সবাই আমাকে উইস করেছে; আবারও যেন আমরা ক্ষমতায় আসি। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আবারও তাদের সঙ্গে যেন দেখা হয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, প্রায় ১০ বছরের মত ক্ষমতায় আছি। এমন কোনো অন্যায় কাজ করিনি যে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। ২০১৮ সালে বন্দি শালায় থাকাকালীন সময়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে পরিকল্পনা করেছি। এটি এখন বাস্তবায়ন করছি। উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষ এখন শান্তিতে আছে।

সুস্থ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের সময়ে এ পর্যন্ত ৬ হাজার নির্বাচন হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। সম্প্রতি সিলেট সিটি নির্বাচনে আমরা হেরেছি। ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। তাই আগামীতেও সুস্থ নির্বাচন হবে। আমি আশা করছি, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর যারা আসবে না এটি তাদের বিষয়।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালজুলেইদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেইওর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সংবর্ধনা সভায়ও যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, সাইবার নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা এবং বৈশ্বিক মাদকদ্রব্য সমস্যা নিয়ে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রদত্ত সম্মানজনক ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয়দানের মাধ্যমে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করায় তাকে এই পদকে ভূষিত করা হয়। পাশাপাশি দূরদৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন-এর পরিচালনা পর্ষদ তাকে ‘২০১৮ স্পেশাল রিকগনাইজেশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করে।