বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর অনলাইন নির্বাচন স্পেশাল২০১৮ 

 

আজ থাকছে নোয়াখালী -৬ আসন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন ।

বিজে২৪ নির্বাচন স্পেশাল ;

 

নোয়াখালীর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদী ঘেরা দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনটি গঠিত। একটি পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি।নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে ভোটের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে।

নোয়াখালীর অন্য আসনগুলোর চেয়ে হাতিয়ার স্থানীয় রাজনীতি একটু ভিন্ন। এখানে দলীয় রাজনীতির বাইরেও ব্যক্তির প্রভাব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মোহাম্মদ আলী।

একইভাবে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও বড় দুই দলের প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হন সাবেক সংসদ ফজলুল আজিম। অবশ্য ২০০৮ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।এখানকার রাজনীতি মূলত দুই ধারায় বিভক্ত। এক হলো মোহাম্মদ আলী সমর্থিত গোষ্ঠী আর অন্যটি হলো মোহাম্মদ আলী বিরোধী গোষ্ঠী।

জনগণের সমর্থন দলের চেয়েও ব্যক্তি পর্যায়ে বিভক্ত। ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে মোহাম্মদ আলী আওয়ামী লীগে যোগদান করায় এখানে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের পাল্লা ভারী।এ আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হলেও দলীয় কোন্দলে দিশেহারা সাধারণ কর্মীরা।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসনটি উদ্ধার করতে চাইছেন এখান থেকে পূর্বে নির্বাচিত সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. ফজলুল আজিম। তবে বর্তমানে এলাকা এবং কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে তার বিচ্ছিন্নতা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।অন্যদিকে, বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস তার আসন ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীও মনোনয়নের দৌড়ে সাধারণের আলোচনায় আছেন। চলমান সময়ে তার ব্যক্তি প্রভাবই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে নতুন করে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় যোগ হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মাহমুদ আলী রাতুল।

২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে নোয়াখালীতে একমাত্র এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম আমির বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌসের সঙ্গে নির্বাচন করে হেরে যান।এদিকে হাতিয়ায় বিএনপি রয়েছে অস্তিত্ব সংকটে।

সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দলটি। জরুরি অবস্থার সময় দলের মূল নেতা ফজলুল আজিম সংস্কারপন্থীদের দলে যোগ দেয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো অনেকটা ভেঙে পড়ে। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

অন্যদিকে এক সময়ের বিএনপি ও পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বলে তার অনুসারীরা এলাকায় প্রচার করছেন। তবে, তিনি কোনও দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন তা এখনও জানা যায়নি।