টপ লাইন: নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের কল্যাণে নোয়াখালীবাসীর নিয়েছেন প্রসংশনীয় উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় নোয়াখালীর প্রতিটি পয়েন্টে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে বসানো হয়েছে তথ্যসেবা কেন্দ্র।করা হয়েছে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা।শিক্ষার্থদের নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষনিক টহল দিচ্ছে আইন শৃখ্ঙলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

বিজে২৪ নোয়াখালী এক্সক্লুসিভ :

উপকূলীয় অক্সফোর্ড খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা আগত দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের অতিথির মত বরণ করে নেয় নোয়াখালীবাসী!

 

 

দূর দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার  শিক্ষার্থীর প্রায় সবারই আবাসন, খাওয়া-থাকা ও পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের পথ-নির্দেশনার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে নোয়াখালীবাসী। আজ ২৬ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নোবিপ্রবি’র স্নাতক ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ইতিমধ্যেই সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আসা শুরু করেছেন নোয়াখালীতে।

 

গত বছরের মত এবারও নোয়াখালীবাসীদের আতিথেয়তায় কোন কমতি নেই , বরং এবার তার পরিমাণ আরও বেড়েছে। নোয়াখালী সদর উপজেলা, পৌরসভা ও নোয়াখালীর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের আবাসনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করা হয়েছে।উন্মুক্ত রাখা হয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতসহ সরকারী বেসরকারী ভবন। শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী স্বাচ্ছন্দে অবস্থান করে নির্বিগ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে নিতে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

এদিকে, নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করীম চৌধুরী বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর  কে বলেন, ভর্তিচ্ছুদের চলাচলের জন্য ৩০টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শহরে বিনা ভাড়ায় সহজেই যাতায়াত করতে পারে। এছাড়াও ৩০ হাজার লিটার পানি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। এছাড়া শহরে যাতে যানজটের সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রতি মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নিয়োজিত ভলান্টিয়ার বাহিনী।

 

পৌরসভা কর্তৃক শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্যকেন্দ্র, যেখানে আগত শিক্ষার্থীরা যেকোন তথ্য ও সেবা পাবে। এ বিষয়ে বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর কে  নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেল জানান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আগত বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীদের সাময়িক খাদ্য ও বাসস্থান সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের ভলান্টিয়ার টিম কাজ করে যাচ্ছে। কেউ যে কোন প্রকার সমস্যায় পড়লে আমাদের ভলান্টিয়ার দের সাথে যোগাযোগ করলে তারা তাৎক্ষণিক সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

 

ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

আগত শিক্ষার্থীদের সার্বিক তত্বাবধানে করছেন নোয়াখালীর সদর উপজেলা পরিষদও। এ বিষয়ে বিবিসি জার্নাল সম্পাদকের সাথে কথা হয় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সিহাব উদ্দিন শাহীনের সাথে ,তিনি বলেন নোয়াখালীবাসী সব সময়ই অতিথিকে আপ্যায়ন করতে ভালোবাসেন,তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এই আয়োজন। অনান্য বছর গুলোতে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থ ী  ও অভিভাবকরা রাস্তাঘাটে রা্ত্রি যাপন করতেন যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু,তাই এই বছর থেকে আমাদের এই আয়োজন।

 

                     আগত শিক্ষার্থীদের রাত্রি যাপন।

 

অন্যদিকে , নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরনের পুত্র ,বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সদস্য জিহান আল রশিদ রাফির সার্বিক তত্বাবধানে বেগমগঞ্জ উপজেলা, পৌর, এবং কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আগত শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদানের জন্য  বেগমগঞ্জের চৌরাস্তায় বসানো হয়েছে তথ্যসেবা কেন্দ্র। এই সেবা কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীরা পানি,জুস,বিশেষ করে আগত ছাত্রীদের রাত্রিযাপনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গনপরিবহন যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে  সেদিকেও  বিশেষ দৃষ্টি রাখছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

 

শিক্ষার্থীদের সহায়তাকারী ছাএলীগ নেতৃবৃন্দের একাংশ।

 

এছাড়াও  বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শত শত সেচ্ছাসেবী কাজ করবে সড়কে আগত শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদানে। এইরকম ভর্তি পরীক্ষায় আগত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য এমন আয়োজন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সাধারণত হয়না, এমনকি এধরনের উদ্যোগ আগে কোন জেলাতে নেয়া হয়নি জানিয়েছেন আগত শিক্ষার্থীরা।

 

যশোর থেকে আসা শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে শিমু বিবিসি জার্নাল-কে বলেন, আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত, আমাদের থাকা ,খাওয়ায় কোন সমস্যা হচ্ছেনা , সবাই যেভাবে খুব আন্তরিকতার সাথে আমাদের সকল সমস্যা সমাধান করছে,  এগুলো দেখে আমরা সত্যিই খুব বিমোহিত ও উৎফুল্ল এবং আমরা নিজেদের খুব নিরাপদ মনে করছি।