৩ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার মালিক একরামুল করিম চৌধুরী  এম,পি।

 

বিজে২৪ নিউজ:

 

বিগত দুই মেয়াদে না থাকলেও এবার ২ কোটি ৮৫ লাখ ৬২ হাজার ২৮২ টাকা বৈদেশিক মুদ্রার মালিক নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

হলফনামা থেকে জানা যায়, বিগত ৫ বছরেই ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ। যা প্রায় ১৩ গুণেরও বেশি।

 

ওই হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৪০ টাকা মূল্যের গাড়ি ছিল। স্ত্রীর নামে ৬২ লাখ ৯২ হাজার ২১২ টাকা মূল্যের গাড়ি। আসবাবপত্র নিজ নামে ৫ হাজার ও স্ত্রীর নামে ৫ হাজার। স্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজ নামে ১১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা মূল্যের ১৩ দশমিক ৩৯ একর কৃষি জমি, ১৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের ১৮ দশমিক ৩৩ একর অকৃষি জমি, ৮৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা মূল্যের আবাসিক/ বাণিজ্যিক ভবন, ১ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের বাড়ি/ অ্যাপার্টমেন্ট, অন্যান্যের মধ্যে ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে অন্যান্য হিসেবে ৩৬ হাজার টাকা ছিল। দায় হিসেবে দুই ব্যক্তির নিকট ৬০ লাখ টাকা, নিটল মটরসের কাছে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ৫৪১ টাকা, ৩টি ব্যাংকের কাছে ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৯ টাকা ছিল।

 

দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৩ সালের হলফনামা অনুযায়ী, কৃষিখাত থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫২ টাকা, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র থেকে ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৯ টাকা আয় করতেন তিনি। ওই হলফনামায় স্ত্রীর কোনো আয়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৩৬ নগদ টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৮ টাকা, শেয়ার মার্কেটে ১ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ১ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার টাকার গাড়ি, ৩ লাখ টাকার ইলেক্টোনিক সামগ্রী এবং ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে উল্লেখ করা হয়।

 

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, স্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষিজমির পরিমাণ বা মূল্য বৃদ্ধি না পেলেও অকৃষি জমির মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ৫ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৩১০ টাকা মূল্যের নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে ৩টি আবাসিক ভবনের কথা উল্লেখ করা হয়। অন্যান্য স্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। দায় হিসেবে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ ১ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪১ টাকা উল্লেখ করা হয়।

 

তৃতীয় মেয়াদে জমা দেয়া এবারের হলফনামায় কৃষিখাত থেকে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯২০ টাকা, বাড়ি/দোকান ভাড়া থেকে ১৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ২ কোটি ৪৯ হাজার ৭৫০ টাকা, এমপি হিসেবে ভাতা ২২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ টাকা, ব্যাংক লাভ ও ইন্সুরেন্স থেকে আয় ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ২২১ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নগদ ও এফডিআর ৪ কোটি ২০ লাখ ৯৫ হাজার ২৪২ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ২ কোটি ৮৫ লাখ ৬২ হাজার ২৮২ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৩ টাকা, ১ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার টাকার গাড়ি। স্থাবর সম্পদ হিসেবে বাড়ির সংখ্যা ৩ থেকে বেড়ে ৫টি হয়েছে। মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৩ হাজার ৩১০ টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ব্যবসায়ের মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৭১ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৭ টাকা।