দৃষ্টিহীন কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, কারাতে দিয়ে কুপোকাত

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

বাবার সঙ্গে লোকাল ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিল ১৫ বছর বয়সের দৃষ্টিহীন কিশোরী। সেই সুযোগ নিয়ে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এক যুবক। কিন্তু ভয়ে কুঁকড়ে যায়নি মেয়েটি, সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদ করে সে। উপস্থিত বুদ্ধি ও কারাতের কৌশলে ওই যুবককে শিক্ষা দিয়েছে কিশোরীটি। বেধড়ক পেটানোর পর অভিযুক্ত যুবককে মুম্বাই রেল পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন ওই কিশোরী ও তার বাবা।

 

বুধবার মুম্বাই থেকে দাদরগামী লোকাল ট্রেনে এমন ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ব্যক্তির নাম বিশাল বলিরাম সিং। তার বয়স ২৪ বছর। ব্যক্তিগত কাজ সেরে এদিন বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন প্রতিবাদী ওই কিশোরী।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেয়েটির সঙ্গেই মুম্বাই থেকে ট্রেনে উঠেছিল অভিযুক্ত বিশাল। সে ট্রেনের কামরায় মেয়েটির পেছনেই দাঁড়িয়েছিল। এরপর সুযোগ বুঝে ওই মেয়ের সঙ্গে অভব্যতা করতে শুরু করে।

 

খবরে বলা হয়েছে, মেয়েটির দৃষ্টিহীনতার সুযোগ নিয়ে তার শরীরের ব্যক্তিগত স্থানে হাত দেয়ার চেষ্টা করে বিশাল। ঘটনার প্রতিবাদ করে ওই কিশোরী। কারাতের কৌশলে অভিযুক্তকে কুপোকাত করে সে। প্রথমে তার হাত মুড়ে ধরে এবং এরপর পায়ে আঘাত করে। হঠাৎ প্রবল আক্রমণে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের মাটিতে পড়ে আর্তনাদ করতে শুরু করে অভিযুক্ত। এরপর ট্রেনের সহযাত্রীদের সাহায্যে তাকে রেল পুলিশের হাতে তুলে দেয় ওই প্রতিবাদী কিশোরী ও তার বাবা।

 

দৃষ্টিহীন ওই কিশোরীর এমন বীরত্বপূর্ণ কাজের প্রশংসা করেছেন দাদর রেল পুলিশের অফিসার প্রসাদ পন্ধার। তিনি বলেন, সমাজের অন্যান্য নারীদেরও এই ভাবেই এগিয়ে আসা উচিত এবং অপরাধের প্রতিবাদ করা উচিত।

 

তবে অন্যরা তার প্রশংসা করলেও, এই কাজের জন্য মোটেই কোনও গর্ববোধ করছে না ওই কিশোরী। তিনি ভাষায়, এই অপরাধীরা সবসময় আমাদের টার্গেট করার চেষ্টা করে। সে কারণেই স্কুলে আত্মরক্ষার কৌশল শিখেছি আমি। স্কুলে আমি কারাতে শিখেছি, যাতে এমন অপরাধীদের উচিত শিক্ষা দিতে পারি।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আটক বিশালের বিরুদ্ধের শিশু সুরক্ষা ও পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।