ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তীর শেষ দিনে প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের ছাড়াই দাড়ি টানতে হয়েছে এ অনুষ্ঠানের।

বিশেষ অতিথির তালিকায় থাকা বর্তমান ও সাবেক ছয় সংসদ সদস্যও ছিলেন অনুপস্থিত। ফলে কয়েকজন অতিথি দিয়েই কোনোমতে সাদামাটাভাবে শেষ করতে হয়েছে বিদ্রোহী কবির ১১৯ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের শেষ দিন রোববার (২৭ মে)।

অতিথি ছাড়া জৌলুসহীন এ অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতা উপস্থিতিও ছিলেন কম। ফলে আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তীতে এমন হেয়ালিপনা হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে নজরুল ভক্ত-অনুরক্তদের।

জানা যায়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দীর্ঘদিন পর নজরুল জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান জাতীয় পর্যায়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে নজরুল জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান একইভাবে উদযাপিত হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী জয়ন্তীর উদ্বোধনী দিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও দ্বিতীয় দিনে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ দ্যুতি ছড়ালেও শেষদিনে ছিল একেবারেই বর্ণহীন। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান উপস্থিত থাকতে পারেননি।

এদিন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে অনুষ্ঠান শুরু হলেও দাওয়াতপত্র ও ব্যানারে বিশেষ অতিথির তালিকায় নাম থাকা ময়মনসিংহ-১১(ভালুকা) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ডা. এম আমান উল্লাহ, মযমনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ও ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন অনুপস্থিত।

একইভাবে বিশেষ অতিথি হওয়া সত্ত্বেও ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের দলীয় সাবেক তিন সংসদ সদস্য রেজা আলী, আব্দুল মতিন সরকার ও হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীও অনুপস্থিত ছিলেন শেষ দিনের অনুষ্ঠানে।

সূত্র জানায়, সব অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে এভাবে অনুপস্থিত থাকায় কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে আয়োজক জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। ফলে বাধ্য হয়েই প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে ছাড়াই অনুষ্ঠান শুরু ও শেষ করতে হয় তাদের। এমন সঙ্কটে বিশেষ অতিথির আসন নেন ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকিউর রহমান।।

অতিথিদের এভাবে অনুষ্ঠানস্থলে অনুপস্থিতের হিড়িকের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতির উদ্বোধনের দিন বর্তমান ও সাবেক সব সংসদ সদস্যই ছিলেন। হয়তো এ কারণেই দ্বিতীয়বার তারা অনুষ্ঠানে আসেননি।

শেষ দিনের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড.সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। দাওয়াতপত্র ও ব্যানার অনুযায়ী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান।

স্মারক বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ও নজরুল গবেষক এএফএম হায়াতুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজাফর রিপন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।