সংরক্ষিত মহিলা আসন, একজন বীরশ্রেষ্ঠ ফাতেমা আমিনের গল্প

 

সম্পাদকীয় ডেস্ক :

 

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের  ভুলবনা-ভুলবনা।

১৯৭১– সবুজের মাঝ লাল বৃত্তখচিত একটি স্বাধীন পতাকা, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, একমুঠো স্বাধীন মাটি, এই ছিল সাতকোটি বাঙ্গালীর প্রানের দাবি, ২৫শে মার্চ রাত হিংস্র হায়েনার মরন কাঁমড়, এক রাতেই লাশের মহা শ্মশান,আকাশে বাতাসে লাশের গন্ধ,

 

বিক্ষুব্দ স্বজন হারানো সাতকোটি জনতা, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে, হায়েনা মুক্ত করতে হবে আমার ”মা” মাটি  ও মাতৃভূমি-কে, দেশপ্রেমের এই মহামন্ত্রে দিক্ষীত হয়ে বাংলার লাখো তরুন ঝাপিয়ে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শহীদ হন বাংলার লাখো তরুন, তেমনী এক শহীদ,

 

বাংলার স্বাধীনতার দামাল ছেলে,যার বুকের তাজা রক্ত আমাদের এনে দিয়েছিল স্বাধীনতা, বলছি সেই বীর সেনানী বীর শ্রেষ্ট রুহুল আমিনের কথা। যার জম্ম ছায়া সুনিবিড় সবুজে ঘেরা নিঝুমদ্বীপ খ্যাত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাচড়া গ্রামে। তারই সুযোগ্য তনয়া ফাতেমা আমিন।

 

 

ফাতেমা আমিন আদর্শে অটুট, অকৃএিম ব্যক্তিত্ব, শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় , আর মানব প্রেমের এক অপূরুপ প্রতিমুর্তি ও মানবতার মহান সেবিকার নাম।   বীরশ্রেষ্ঠ বাবার আদর্শকেই বুকের মধ্যে আজম্ম লালন করে যাচ্ছেন এই সমাজ সেবী। অন্যায় কিংবা অন্ধকার কখনোই এতটুকু স্পর্শ করতে পারেনি তাকে, যেথায় ঠেকেছেন সেথায় শিখেছেন। সমাজের অন্যায় ,অবিচার দূর করা, আর গরীব দুঃখী মানুষের সেবা করার দীপ্ত শপথে এগিয়ে চলেছেন দূর্নিবার।

 

ফাতেমা আমিন ছোট বেলায় হারান জনম দুঃখিনী মাকে, তারপর একমাত্র সম্বল ছিল বাবা,কিন্তু সেই বাবাও একদিন সমাজ সংসার,সন্তান,প্রিয়জন সকল-কে ছেড়ে দেশমাতৃকার মুক্তির আন্দোলনে যোগ দেন, আর ফিরে আসেননি বাবাও, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে যান বাবা রুহুল আমিন।এতিম হয়ে যান ফাতেমা আমিন সহ তারা ছয় ভাই বোন, বড় ভাইয়ের রোজগারে তখন কোন ভাবে সংসার চলে যাচ্ছিল, হটাৎ এর কিছু বছর পরই বাবা মায়ের মতই পিতৃতুল্য বড় ভাইও পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, অভাব অনটনের সংসারে একদিন হটাৎ করেই আরেক ভাইও মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন, তার কিছুদিন পরেই হারান আরেক প্রিয় বড় বোন-কে, একে একে সব প্রিয়জনদের হারিয়ে দিক বিদিক শূন্য হযে পড়েন ফাতেমা আমিন, কোথায় যাবেন,কোথায় থাকবেন,কি খাবেন কিছুই বুঝতে পারছিলেন হতভাগিনী ফাতেমা আমিন।

 

নানুর বাড়িতে শত দারিদ্রতা,দুঃখ,কষ্টের মাঝে নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন ফাতেমা আমিন, থাকার জন্য যখন কোন বাসস্থান ছিলনা তখন নৌবাহিনীর সহযোগিতায় চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে বিহারীদের একটি বাড়ী দেয়া হয় ফাতেমা আমিনের পরিবার-কে। সেখান থেকে ফাতেমা আমিনের জীবনের আরেক অধ্যায় শুরূ।

 

পরের গল্পটা যেন স্বপ্নে খচিত এক সুন্দর বাস্তব,দারিদ্রতার শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্না নারী হিসেবে।শিক্ষা দীক্ষা আচার আচরনে পরিপূর্ন পরিপক্ক এক রমনী ফাতেমা আমিন।

 

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মেয়ে ফাতেমা আমিন

 

শিক্ষাজীবন শেষ করেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স অব সোশ্যাল সায়েন্স নিয়ে।বর্তমানে পেশায় তিনি একজন শিক্ষিকা।শিক্ষকতার পাশাপাশি ভালবাসেন মুজিব আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-কে,তিনি উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা বীরশ্রেষ্ঠ কল্যান ট্রাস্ট এর সহ-সভাপতি ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনেও তার আছে সক্রিয় অংশ গ্রহন। স্বামী মোঃ কুতুব উদ্দিন চৌধুরী চট্রগ্রাম রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একজন সমাজকর্মী।

 

সদ্ব্য নারী সংরক্ষিত আসন থেকে এই সমাজ সেবীকা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।এতে খুশি চট্রগ্রাম ও নোয়াখালীর দুই জেলার বাসিন্দারা। গত ১৬ই ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ নিমন্ত্রনে বঙ্গভবনে সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার-কে নিমন্ত্রন করা হয়।মুলত সেখানেই প্রথম সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে ফাতেমা আমিন-কে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করার দাবি জানানো হয় বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে, যা পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির মাধ্যম হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।