নোয়াখালীর কবিরহাটে গৃহবধূ গণর্ধষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও আসামীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

রোববার সকাল ১০টায় নবগ্রাম নিমতলা সমিতির বাজারে ঘন্টব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে সহস্রাধিক নারী, পুরুষ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত জহির ও সন্দেহজনকভাবে ভিকটিমের দেবরসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তবে স্থানীয়দের দাবি, নতুন গ্রেফতারকৃত তিনজন নিরপরাধ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, সমিতি বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক, নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল হক, নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পলাশ চন্দ্র ভৌমিক প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা সাধারণ লোকজনকে হয়রানি না করে পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে অবিলম্বে মূল আসামিদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিবেন বলেও ঘোষণা দেন।

পুলিশ কোন নিরপরাধী লোকজনকে হয়রানি করছে না দাবি করে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাছান বলেন, গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন জহিরের দেওয়া তথ্য মতে রাতে নবগ্রামে অভিযান চালিয়ে অজি উল্যার ছেলে আব্দুর রব হোসেন মান্না (২১), ইমসাইলের ছেলে মো. সেলিম (২৫) ও মফিজুর রহমানের ছেলে হারুন অর রশিদ (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নির্যাতিতা নারী জানান, তার স্বামীকে গত ২৩ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে রাজনৈতিক  মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ঘরে তিনি, তার মা ও তিন সন্তান রয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত মধ্য রাতে (১৯ জানুয়ারী) সাতজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের সীঁদ কেটে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে চারজনের মুখ বাঁধা ও তিনজনের মুখ খোলা ছিল। তারা ঘরে ঢুকে প্রথমে থানা থেকে এসেছে বলে তার স্বামীকে খুঁজতে থাকে। পরে তারা তার ছোট মেয়েকে বেঁধে এবং অন্যদের অস্ত্র দেখিয়ে ঘরে থাকা ৬০ হাজার টাকা, কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এর মধ্যে তিনজন তাকে ধর্ষণ করে।