ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইএসবধূ শামীমা

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। চার বছর আগে মাত্র ১৫ বছর বয়সে আরও দুই বান্ধবীসহ সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন শামীমা।

 

ব্রিটেনের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, যেহেতু শামীমা আরেক দেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, তাই তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হতে পারে।১৯ বছর বয়সী শামীমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জ বলেছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে তারা ‘হতাশ’এবং তাদের চ্যালেঞ্জ করতে ‘সব আইনি পথ’খোঁজার বিবেচনা করছেন তারা।২০১৫ সালে পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা শামীমা ব্রিটেন থেকে তুরস্ক যান।

 

সেখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়ায় পৌঁছে আইএসে যোগ দেন। কিন্তু সম্প্রতি সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রিটেন ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।তিনি জানান যে, তিনি নয় মাসের গর্ভবতী। ওই সাক্ষাৎকার দেয়ার কয়েকদিন পর রোববার ছেলে সন্তানের জন্ম দেন শামীমা। এটি তার তৃতীয় সন্তান।

 

এর আগে অপুষ্টিতে ভুগে তার দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেন, আমি কখনও আইএসের ‘পোস্টার গার্ল’হতে চাইনি। এখন আমি চাই আমার সন্তান যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠুক।এদিকে ব্রিটিশ সরকার তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে শামীমার মাকে চিঠি দিয়েছে।

 

নাগরিকত্ব বাতিল হলে শামীমার কী হবে?

 

১৯৮১ সালের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, কারও নাগরিকত্ব বাতিল করলে তা দেশের ‘জনগণের জন্য ভালো হবে’এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রবিহীন হয়ে পড়বে না- এমনটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত হলে ওই ব্যক্তি নাগরিকত্ব বাতিল করা যাবে।শামীমা জানান, তিনি তার বোনের ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন।

 

তবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তার কাছ সেই পাসপোর্ট নিয়ে নেয়া হয়।ধারণা করা হয়, তিনি বাংলাদেশি ঐতিহ্য ধারণ করেন। কিন্তু বিবিসি যখন তার কাছে জানতে চায় তখন শামীমা বলেন, তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই এবং তিনি কখনও বাংলাদেশ যাননি।এদিকে ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনও ব্রিটিশ নাগরিকের সন্তান ব্রিটিশ বলেই বিবেচিত হবে। তবে শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হলে তার সন্তানও আর ব্রিটিশ হিসেবে বিবেচিত হবে না।