বিরোধিতার মুখে ফ্রান্সে হিজাব বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

বিরোধিতার মুখে মুসলিম নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য হিজাব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফরাসি স্পোর্টস সামগ্রী বিক্রেতা কোম্পানি ডিকেটল্যুঁ।

 

ডিকেটল্যুঁ’র কর্মকর্তা জাভিয়ের রিভোয়া মঙ্গলবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, মুসলিম নারী দৌড়বিদদের জন্য হিজাব বিক্রির পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, হাতে গোনা কয়েকজন বিশেষ ক্রীড়াবিদদের জন্য তারা হিজাব বিক্রি করবে।

 

তবে ফ্রান্সে হিজাব বিক্রির পরিকল্পনায় দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইনে এ বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু এটা নারীদের প্রতি একটা বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, যা আমি সমর্থন করি না। তাই আমি চাইবো কোনো ফরাসি ব্র্যান্ড নারীদের হিজাবকে প্রোমোট করবে না।’

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটা কোনো অবদমন নয়, এটা সেই পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে, যারা জনসমক্ষে নারীদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না।’

 

২০১৪ সালে স্কুল এবং সরকারি অফিসে ফ্রান্স এমন ধরনের হিজাব নিষিদ্ধ করেছে, যা দিয়ে চুল ঢাকা থাকে, কিন্তু চেহারা দেখা যায়। তবে দেশটির রাস্তায় হিজাব পরিহিত নারীদের অহরহ দেখা যায়।

 

তবে স্পোর্টস হিজাব পরিধানের পক্ষে অনেকেই বলছেন, হিজাব পরতে দিলে মুসলমান নারীরা বিভিন্ন খেলা ও অন্যান্য কাজে অংশ নিতে পারবে এবং এর ফলে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়বে।

 

ডিকেটল্যুঁ’র দৌড়ের পোশাকের ডিজাইন করেন আঞ্জেলিক টিবো। তিনি জানান, ‘আমি চাই প্রত্যেক শহরের, প্রতিটি দেশের, প্রত্যেকটি এলাকার নারীরা তাদের ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসুক। সেটা তাদের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান রেখে যদি তারা করতে চায় এতে বাধা দেয়া উচিত নয়।’

 

তিন বছর আগে বুর্কিনি যখন বাণিজ্যিকভাবে প্রচার পায়, তখন ফ্রান্সের কয়েকটি শহরের মেয়র সংশ্লিষ্ট শহরে পুরো শরীর ঢাকা সাঁতারের পোশাক নিষিদ্ধ করেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, মার্কিন কোম্পানি নাইকি স্পোর্টস হিজাব বিক্রি করে। অনেক প্রখ্যাত মুসলিম অলিম্পিক পদকজয়ী নারী তাদের তৈরি হিজাব পরেন।

 

সূত্র : ডয়েচে ভেলে