নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বেগমগঞ্জ থানা যুব কল্যাণ সমিতির বর্ণাঢ্য নৌ-বিহার

 

বিজে২৪নিউজ:

 

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেঁয়েমীকে পেছনে ফেলে এক অন্যরকম আনন্দমুখর দিন কাটালেন নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী সংগঠন “বেগমগঞ্জ থানা যুব কল্যাণ সমিতি” সদরঘাট বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌবিহারের আয়োজন করে নোয়াখালীর ”মা” সংগঠন খ্যাত বেগমগঞ্জ থানা যুব কল্যাণ সমিতি নামক ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি। শুক্রবার শিশির স্নাত কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল থেকে স্নিগ্ধ বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌ-বিহারের নানা আনুষ্ঠানিকতায় মেতেছিলেন বেগমগঞ্জবাসী।

 

বহুল কাঙ্খিত এ আনন্দযাত্রায় যোগ দিতে নির্ধারিত সময় সকাল ৭টার বেশ আগ থেকেই ভ্রমন পিপাসুরা একে একে জড়ো হতে থাকেন রাজধানীর সদরঘাট ১নং টার্মিনালে। অবশ্য এর আগেই ঘাটে অপেক্ষা করছিল নতুন বধুর সাজে নৌ-বিহারের সুসজ্জিত নৌকাটি।লঞ্চ তখন সদরঘাটের হৈচৈ পেরিয়ে খানিকটা এগিয়েছে। যাত্রার শুরুতেই সাউন্ড সিস্টেমে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত । গানে গানে স্মরণ করা হয় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ ও চকবাজারে অগ্নিকান্ডে নিহতদের । গানের সুর আর ঢেউয়ের তালে তালে লঞ্চ এগিয়ে চলে আপনমনে বুড়িগঙ্গার বুক চিড়ে।

 

 

জীবনে প্রথম যারা লঞ্চে ভ্রমণ করছেন; তাদের আনন্দের আর অন্ত নেই। উচ্ছ্বাসে কখনো নাচছেন। আবার কখনো গেয়ে উঠছেন প্রিয় কোনো গান। লঞ্চের ছাদে এবং দোতলায় জমে ওঠেছে আড্ডা। আড্ডাকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছেন লুৎফুর রহমান ফটিক ও শিল্পী জনি খান, তাদের গানের তালে নাচতে থাকেন ছোট-বড় সবাই।

 

 

বুড়িগঙ্গার উৎকট গন্ধও দমাতে পারেনি ভ্রমণ পিপাসুদের। সারা বছরের ক্লান্তি ঝেড়ে সবাই যেন কেমন চঞ্চল হয়ে উঠেছেন। যদিও শুরু থেকে চকবাজার ট্রাজেডির সেই ক্ষনটি সবাইকে ভারাক্রান্ত করে রেখেছিল। কিছু সময়ের জন্য সেই রেশ কেটে নাচে-গানে-কবিতায় মেতে ওঠেন সবাই। সাংস্কৃতিক পর্বে ভাবিদের সুই-সুতো,শিশুদের রকমারী খেলা,টকশো সবাইকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে তরুন ও ছোট ছোট শিশুদের  হৃদয়কাড়া ড্যান্স, অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

 

অন্যদিকে জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী জনি খানের আয়োজনে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও । সূর্যের প্রখরতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলে নৌ-বিহারের নৌকা,  একই সঙ্গে বাউল ভাটিয়ালী আর আধুনিক গানের মূর্চনার সাথে সাথে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের বাহারি আয়োজনে এ এক অন্যরকম আবহ উপভোগ করেন ভ্রমন পিপাসুরা।

 

হাসি-আনন্দে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে লঞ্চ। গান, নাচ আর বাহারী খাবারের আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে ফটোসেশন ও সেলফিযজ্ঞ। ক্যামেরায় তৎপর ছিলেন অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকমের ক্যামেরা পারসনরা ,এছাড়াও সেলফিবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন মুরাদ, ইকবাল, আমির,দিদার সহ আরো অনেকে। দেখতে দেখতে দুপুর একটা নাগাদ জুম্মার নামাজের বিরতির জন্য লঞ্চটি নোঙর করে চাঁদপুর মতলব থানার মোহনপুর  ঘাটে। সেখানে সবাই হৈ হৈ করে নেমে পড়েন ডাঙায়।

 

 

শুধু তাই নয় প্রথমে সংগঠনের সভাপতি আরজু খানের নৌ-বিহারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার উদ্বোধন ঘোষনার সাথে সাথে বেজেে উঠে জাতীয় সংগীত,তারপর চকবাজার ট্রাজেডিতে নিহতদের স্মৃতির স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুল আয়েজন। উদযাপন কমিটির আহব্বায়ক মাহফুজুর রহমান কিরণের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা পর্ব।

 

আলোচনা পর্বের মুল আকর্ষন ছিল  জামাল এন্ড কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী ও বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এম.জামাল উদ্দিন।অনুভুতি প্রকাশের সময় তিনি বলেন, বেগমগঞ্জ থানা যুব কল্যাণ সমিতির ইতিহাসে এটাই প্রথম নৌ-বিহার।সত্যিই এটি একটি  ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সঙ্গী হতে পেরে সত্যিই আমার খুব ভাল লাগছে। একই সাথে তিনি বেগমগঞ্জের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সবাইকে যেকোন কিছুর বিনিময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

তারপর অনুভুতি প্রকাশ করেন  আজাদ আর্ট হলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিবিসি জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক জাফর আহামেদ, তিনি অনুভূতি প্রকাশের ভাষায় বলেন,,বেগমগঞ্জ থানা যুব কল্যাণ সমিতির এ ব্যতিক্রমী নৌ-বিহার  আমার জীবনের খাতায় একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। ’সংগঠনের একজন শুভাকাঙ্খি হিসেবে ভবিষ্যতে এর সকল সৃজনশীল কর্মকান্ডে সহযাত্রি হওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে আরও অনুভুতি ব্যক্ত করেন, সংগঠনের উপদেষ্টা লুৎফুর রহমান ফটিক,মনোয়ার হোসাইন তোফিক, শাহনেওয়াজ টিপু,মনজুরুল আজিম সুমন, মোঃ ছালা উদ্দিন, আজিজুর রহমান কিরণ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শওকত উল্যাহ চৌধুরী, নৌ-বিহার উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মনজুর কাদের চৌধুরী,সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  ও আরটিভির নির্বাহী  অফিসার এম.সাইফুর রহমার রাসেল,সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন,বাতির নীচে অন্ধকার প্রসঙ্গ-নোয়াখালীর এডমিন এডভোকেট মো: আনোয়ার হোসেন, রফিক উল্যাহ রাজু প্রমূখ।

 

অবশেষে পড়ন্ত বিকেল পেরিয়ে ঘনিয়ে এলো সন্ধ্যা,  এবার ছুটতে হবে আপন গন্তব্যেে , উদেশ্য ঢাকা।এরই মাঝে শুরু হল র‌্যাফেল ড্র,বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হল পুরস্কার।ততক্ষণে লঞ্চ সদরঘাট ছুঁই ছুঁই। সবাই যার যার ব্যাগ গোছানোর ব্যস্ততা সেরে নেমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। লঞ্চ থেকে নামার আগে প্রত্যেকের হাতে আবার  তুলে দেয়া হল সন্ধ্যার নাস্তা । একদিনের ভ্রমণে অনেক স্মৃতি, অনেক ভালোবাসা বুকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন সবাই। পুরো যাত্রাপথেই আনন্দ বাড়াতে সার্বিক বিষয়ে সুদৃষ্টি রেখেছেন বেগমগঞ্জ থানা যুব কল্যাণ সমিতি আহব্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

আগামী বছর এমন সুখময় ভ্রমণের সাক্ষী হওয়ার প্রত্যাশায় চাতকের মতো দৃষ্টি নিয়ে আলো-আঁধারীর শরীর ঘেঁষে সবাই ফিরে গেলেন আপন গন্তব্যে। আর এটাই ছিল নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বেগমগঞ্জ থানা যুব কল্যাণ সমিতির বর্ণাঢ্য নৌ-বিহারের ১৪ ঘন্টার স্মৃতিময় জার্নি।